১০টি মুহূর্তে সালাম দেয়া কখনোই উচিত নয় #প্রত্যেকের জানা উচিৎ!

সালাম দেয়া উচিত নয়- এক মুসলমান অন্যজনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলে সালাম দেয়ার বিধান রয়েছে। সালামের মাধ্যমে পরস্পরের জন্য শান্তি ও কল্যাণ কামনা করা হয়। কোনো মুসলমান ভাইয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ হলে কথা বলার আগে সালাম দেয়া নবীজির আদর্শ। আর এর উত্তর দেয়া অবশ্যকরণীয়। রাসুল (সা.) সালামের ব্যাপারে বিশেষ তাগিদ দিয়েছেন। হাদিসে কারো সঙ্গে দেখা হলে কথাবার্তার আগে সালাম দেয়ার কথা বলা হয়েছে। আমাদের সমাজে সালাম সৌজন্য বিনিময়ের একটি মাধ্যম। চলতে-ফিরতে, দেখা-সাক্ষাতে যেমন সালাম দিতে হয় তেমনি ফোনে বা মোবাইলে কথা বলার সময়ও সালাম দেয়া সুন্নত। সালাম একটি স্বতন্ত্র ইবাদত ও সওয়াবের উপায়।

তবে এই সালামেরও কিছু নিয়ম ও আদব আছে। সালাম একটি সওয়াবের কাজ হলেও অনেক সময় বিধান না মানার কারণে তা আর সওয়াবের কাজ থাকে না, গোনাহের কাজ হয়ে যায়। ১০টি মুহূর্ত এমন আছে যখন সালাম দেয়া উচিত নয়। ১. নামাজ পড়া অবস্থায় কোনো ব্যক্তিকে সালাম দেয়া উচিত নয়। কারণ নামাজের অবস্থায় ওই ব্যক্তি এর উত্তর দিতে পারবেন না। উত্তর দিলে নামাজ ভেঙে যাবে। ২. কেউ প্রশ্রাব-পায়খানা করছে এমতাবস্থায় তাকে সালাম দেয়া যাবে না। কারণ তখন জবাব দেয়ার কোনো উপায় নেই। সালামও এক ধরনের জিকির। প্রশ্রাব-পায়খানার সময় জিকির করা যাবে না।
৩. ওজুরত অবস্থায় কাউকে সালাম দেয়া যাবে না। এতে তার ওজুর মনোযোগ নষ্ট হবে; ওজুতে ভুলও হতে পারে। ৪. কেউ খাবার খাচ্ছে এমতাবস্থায়ও সালাম দেয়া যাবে না। এ সময় সালাম দিতে নিষেধ করা হয়েছে হাদিসে। ৫. কোরআন তেলাওয়াত করা অবস্থায় কোনো ব্যক্তিকে সালাম দেয়া উচিত নয়। ৬. জিকির ও মোরাকাবারত ব্যক্তিকে সালাম দেয়া উচিত নয়। ৭. ওয়াজ ও নসিহত শোনা অবস্থায় সালাম দেয়া উচিত নয়।
৮. দ্বীনি শিক্ষার মজলিসে মশগুল ব্যক্তিকে সালাম দেয়া উচিত নয়।
৯. আজানরত অবস্থায় মুয়াজ্জিনকে সালাম দেয়া যাবে না। ১০. কেউ কোনো জরুরি হিসাব-নিকাশে ব্যস্ত তখনও সালাম দেয়া যাবে না। সালামের উত্তর দেয়া যেহেতু ওয়াজিব এজন্য যাকে সালাম দেয়া হচ্ছে তার অবস্থাটি বিশেষ বিবেচনায় রাখাই হচ্ছে সালামের মূল আদব। রাতের বেলায় ৭ বছর ধরে স্বেচ্ছা শ্রমে মসজিদ পরিষ্কার করছেন মুক্তিযোদ্ধা নয় মাসের স্বাধীনতা যুদ্ধে জীবন বাজি রেখে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য রান্না করে খাইয়েছেন। বিভিন্ন অপারেশনে গোলাবারুদ কাঁধে তুলে নিয়ে পৌঁছে দিয়েছেন গন্তব্যে। ১১ নং সেক্টরে থেকে নিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধের উপর প্রশিক্ষণও।

কিন্তু স্বাধীনতার ৪৮ বছরেও মেলেনি মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি। হাজারো সহযোগী মুক্তিযোদ্ধাদের ভীড়ে নিভৃতে সময় কাটছে কুড়িগ্রামের উলিপুর শহরের আব্দুল গণি মিয়ার (৬৭)। দিনে তিনি কাপড়ের দোকানের সামান্য কর্মচারি। আর রাতে গোপনে পরিচ্ছন্ন কর্মী হিসেবে কাজ করেই জীবিকা নির্বাহ করছেন তিনি। দেশ স্বাধীনের আগে ভারতসহ বিভিন্ন জায়গায় ফুটবল খেলে সুনাম কুড়িয়েছিলেন আব্দুল গণি। ক্রীড়ামোদী এই মানুষটি জীবন সায়াহ্নে এসে নিজ উদ্যোগে উলিপুর বড় মসজিদে (মসজিদুল হুদা) করছেন পরিচ্ছন্নতার কাজ। এই কাজ করে খুশি তিনি। প্রতিদিন রাত ৯টার পর চলে আসেন মসজিদ কমপ্লেক্সে। ঝড়-বৃষ্টি-শৈত্যপ্রবাহ তাকে আটকে রাখতে পারেনি। এখানে এসে নিজের ক্রয় করা সামগ্রী দিয়ে মসজিদের অজুখানা, প্রস্রাবখানা, অপরিস্কার ড্রেন পরিস্কার করেন। এই কাজগুলো শেষ করতে পার হয়ে যায় দুই থেকে তিন ঘণ্টা। এরপর বাসায় ফেরেন আব্দুল গণি। এভাবে ৭/৮ বছর ধরে এই সেবামূলক কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। ব্যক্তিগত জীবনে ৬ সন্তানের জনক এই মুক্তিযোদ্ধা ৩ ছেলে ও ৩ মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। সবাই যার যার সংসারে ব্যস্ত। আব্দুল গণি মিয়া জানান, ছোট বেলা থেকেই তিনি ছিলেন ডানপীটে স্বভাবের। খেলাধূলার প্রতি ছিল অসম্ভব টান। দেশ স্বাধীনের পূর্বে ভারতের মাইনকার চর, বকবান্দাসহ কুড়িগ্রাম, রংপুর, রাজশাহীর বিভিন্ন জায়গায় ফুটবল খেলে পরিচিতি লাভ করেন। এখনো ভালোবাসেন ফুটবলকে। স্থানীয়ভাবে লালদল ক্রীড়া সংগঠনের সাথে জড়িত। দুস্থ খেলোয়াড়দের জন্য জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ও বঙ্গবন্ধু কল্যাণ ট্রাস্ট থেকে যে ভাতা প্রতি বছর দেয়া হয় তা তিনি পেয়েছেন কয়েকবার।

তিনি আরো জানান, শহরের কে পি সাহা এন্ড বস্ত্রালয় কাপড়ের দোকানে কর্মচারী হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছেন। প্রতিদিন সকাল থেকে থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত দোকানের কাজ শেষ করে তিনি ছুটে যান মসজিদুল হুদায়। সেখানে থাকা বিরাট অজু খানা, প্রস্রাবখানা, ড্রেনসহ মসজিদ ভবনের বাহিরের অংশ তিন ঘন্টারও বেশি সময় ধরে পরিস্কার করেন তিনি। পরে গভীর রাতে বাড়িতে গিয়ে গোসল সেরে খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন।

মুক্তিযোদ্ধা গণি জানান, মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশ মাতৃকাকে মুক্ত করতে ১১ নং সেক্টরের প্রশিক্ষক নজরুল ইসলামের কাছে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। সম্মুখ যুদ্ধে অংশগ্রহণ না করলেও ওই সময় জেলার উলিপুর ও চিলমারীতে বিভিন্ন অপারেশনে মুক্তিযোদ্ধাদের গোলাবারুদ বহন এবং ক্যাম্পে রান্না বান্নার কাজ করে মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা করেছেন। উলিপুর মসজিদুল হুদা’র সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব দেলোয়ার হোসেন জানান, গণি ভাই যে কাজটা করেন সেটা মেথর বা সুইপারের করার কথা। দীর্ঘদিন থেকে নিজ উদ্যোগে অত্যন্ত আনন্দের সাথে কাজটুকু করেন তিনি। ঝড়-বৃষ্টি, শীত উপেক্ষা করে গভীর রাত পর্যন্ত তিনি শ্রম দেন। উনি কখনোই এ জন্য পারিশ্রমিক চাননি। আল্লাহর ঘরের খেদমত করাকে তিনি নিজের কাজ হিসাবে বেছে নিয়েছেন। সাবেক উলিপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার এম ডি ফয়জার রহমান বলেন, মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটি গণি মিয়ার নাম অর্ন্তভূক্ত করে কেন্দ্রে প্রেরণ করেছেন। যুদ্ধকালীন তার ভূমিকার জন্য ১১ নং সেক্টরের প্রশিক্ষক নজরুল ইসলাম ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারের প্রত্যয়নপত্র তার রয়েছে।

(Visited 999 times, 1 visits today)

Related Post

You may also like...