আনোয়ারা বেগম নামে পঞ্চাশোর্ধ এক নারীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাতে একটি বাসা থেকে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় লাশটি উদ্ধার করা হয়। নিহত আনোয়ারা বেগম কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় পায়ার খোলা গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা ইয়াসিন মজুমদারের স্ত্রী। তার লাশের পাশে একটি সুইসাউড নোট পাওয়া যায়। তাতে তিনি নিজ কর্মস্থল বিআরডিবির দুই কর্মকর্তার বিচার দাবি করেছেন।

নিহতের ভাতিজা মিজানুর রহমান জানায়, তার ফুফু আনোয়ারা বেগম দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে পল্লী উন্নয়ন বোর্ডে (বিআরডিবি) ফুলগাজী উপজেলা শাখার মাঠকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
বিআরডিবি ফুলগাজী উপজেলা শাখায় কর্মরত থাকলেও তিনি ফেনী শহরের সুলতানপুর এলাকার একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন। তার একমাত্র ছেলে ঢাকায় পড়ালেখার পাশপাশি একটি দৈনিকে শিক্ষানবিশ ফটোসাংবাদিক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। অপর মেয়ে বিয়ের পর স্বামীর বাড়ি থাকেন। গত বৃহস্পতিবার আনোয়ারা বৃদ্ধ স্বামী ইয়াসিন তার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় পায়ার খোলা যান।

শুক্রবার বিকাল পর্যন্ত আনোয়ারা তার ঘরের দরজা না খুললে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে তারা পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ দরজা ভেঙ্গে ঘরে প্রবেশ করে আনোয়ারার ঝুলন্ত লাশ দেখতে পায়। এ সময় লাশের পাশ থেকে একটি চিরকুট জব্দ করে পুলিশ। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ। চিরকুটে নিহত আনোয়ারা বেগম ফেনী-২ আসনের স্থানীয় সংসদ সদস্যকে উদ্দেশ্য করে লিখেছেন, ‘আমার মৃত্যুর জন্য বিআরডিবি ফেনী সদর এর ডিডি শংকর কুমাল পাল ও ফুলগাজীর এআরডিও কৃষ্ণ গোপল রায় দায়ী। তারা দু’জনে গত চার মাস ধরে আমাকে মানসিকভাবে নির্যাতন করেছে। গত অক্টোবর থেকে জানুয়ারি চার মাস আমাকে বেতন-ভাতা দেয়নি। এর মধ্যে গত ৩১শে জানুয়ারি আমি ঋণ নিয়েছি মর্মে জোর করে আমার থেকে স্বীকারোক্তি ও অঙ্গীকারনামা লিখিয়ে নেন ডিডি শংকর কুমার পাল।

এরপর আমি স্ট্রোক করলে আমাকে ঢাকা নেয়া হয়। চিকিৎসা শেষে ৭ দিন পর আমি বুধবার ফেনী ফিরে আসি’। ফেনী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, চিরকুট জব্দের পর নিহতের স্বজনরা আনোয়ারার মৃত্যুতে বিআরডিবির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করায় পুলিশ তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শুক্রবার মধ্যরাতে তাদের বাসায় অভিযান চালিয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Related Post