গাজীপুরে হত্যার পর শিশুর লাশ হাড়ির ভেতরে লুকিয়ে রাখেন বাবা!

শিশুর লাশ হাড়ির ভেতরে- গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার গড়গড়িয়া মাস্টারবাড়ী এলাকায় মনিরা (৬) নামে এক শিশুকন্যাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। পরে খাটের নিচে ভাতের হাড়িতে লুকিয়ে রাখেন শিশুটির নিষ্ঠুর বাবা। রবিবার (১০ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে গড়গড়িয়া মাস্টারবাড়ী এলাকা থেকে শিশু মনিরার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিশুটির নিষ্ঠুর বাবা রফিকুল ইসলাম গড়গড়িয়া মাস্টারবাড়ী এলাকার হাজ্বী ইয়াসিন মিয়ার বাড়িতে পরিবার নিয়ে ভাড়া থাকতেন। নিহত শিশুর বাবা ও মা দু’জনই ডেনিম্যাক গার্মেন্টস পোশাক কারখানায় চাকরি করত বলে জানা যায়।

নিহত শিশু মনিরা স্থানীয় মোহাম্মদ আলী কিন্ডার গার্ডেনের প্লে শ্রেণিতে পড়ালেখা করত। শিশুটির মা নাসরিন আক্তার জানান, দিনের কোন এক সময় আমার মেয়েকে হত্যা করে লাশ ভাতের হাড়িতে লুকিয়ে রেখে পালিয়ে যান ঘাতক রফিকুল। রফিকুলের কাপাসিয়া উপজেলার হাইলজুর গ্রামে। শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি জাবেদুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থল থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর থেকে শিশুটির বাবা পলাতক রয়েছে।

# মামীর সাথে পরকিয়া, দেখে ফেলায় নানাকে হত্যা এবার নাতির ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন নানা মজিবুর রহমান (৭৫)। কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার শোমসপুর ইউনিয়নের সন্তোষপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ অভিযুক্ত নাতি নাঈম (২১) ও নিহতের পুত্রবধু সামিয়াকে (৩৪) আটক করেছে। পুলিশ বলছে, রবিবার দিবাগত রাতে আটক নাঈমের সাথে তার মামী সামিয়ার পরকিয়ার সম্পর্ক দেখে ফেলায় মজিবুর রহমানকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেছে নাঈম।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নাঈম সব ঘটনা স্বীকার করেছে বলে নিশ্চিত করে খোকসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবিএম মেহেদী মাসুদ জানান, বেশ কিছুদিন ধরেই নিহত মজিবুর রহমানের বড় মেয়ের বড় ছেলে নাঈমের সাথে মেজ ছেলের স্ত্রী সামিয়ার মধ্যে পরকিয়ার সম্পর্ক চলছিল। রবিবার রাতে ঢাকা থেকে বাড়ি এসে নাঈম নানা বাড়ি যায়। মেজ মামা মাসুদের অনুপস্থিতিতে সে তার স্ত্রী সামিয়ার ঘনিষ্ট হয়। এসময় নানা মজিবুর রহমান দেখে তা ফেলেন। বিষয়টি প্রকাশ হয়ে যাবে এই ভয়ে নাঈম তার নানাকে ঘর থেকে বারান্দায় বের করে এনে বুকে ধারালো ছুরি দিয়ে আঘাত করে পালিয়ে যায়। বাড়ির অন্যরা মজিবুর রহমানকে উদ্ধার করে খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ রাতেই নাঈমের নিজবাড়ী কুমারখালী থেকে তাকে আটক করে এবং তার স্বীকারোক্তিতে সামিয়াকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা ওসি।

## ভাগনি জামাইকেও ছাড়েননি মিতু: চট্টগ্রামের এক মিতুর রেস কাটতে না কাটতেই আরেক মিতুর খোঁজ। সুলতানা আক্তার মিতু ওরফে কহিনুর। বয়স ২৫ বছর। ২৫ বছর বয়সে ছয়টি বিয়ে করেছেন তিনি। বিয়ের পর প্রতারণার মাধ্যমে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়াই তার কাজ। মিতু বরিশাল সদর উপজেলার সায়েস্তাবাদ এলাকার ফজলু সিকদারের মেয়ে। তার এসব অসামাজিক কর্মকাণ্ডে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন এলাকাবাসী। সেই সঙ্গে মিতুর বিরুদ্ধে বরিশাল পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তারা। পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে দেয়া সায়েস্তাবাদের দক্ষিণ চরআইচা গ্রামের অর্ধশতাধিক মানুষের স্বাক্ষরিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, সুলতানা আক্তার মিতু ওরফে কহিনুর স্কুলে পড়া অবস্থায় একই এলাকার ভুলু শরিফের ছেলে মন্টু শরিফের সঙ্গে প্রথম বিয়ে হয়। স্বামীর সংসার করার সময় ফেনীর সাইফুল ইসলাম বাকেরের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন মিতু। পরে সাইফুলকে বিয়ে করে অর্থ হাতিয়ে এলাকায় ফিরে আসেন তিনি।

এরপর ভাগনি জামাই আনোয়ার হোসেন রিপনকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ে করেন মিতু। বিয়ের কয়েক মাস পর রিপনকে ছেড়ে দেন তিনি। পরে পিরোজপুরের স্বরূপকাঠির মো. আমিনুল মাস্টারকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ে করেন। পরে তাকে ছেড়ে দিয়ে আরেকটি বিয়ে করেন। এভাবে এ পর্যন্ত ছয়টি বিয়ে করেছেন মিতু। এসব বিয়ের প্রকৃত কোনো কাবিন বা রেজিস্ট্রি নেই। নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে ভুয়া কাবিননামা তৈরি করে এসব বিয়ে করেছেন মিতু। সেই সঙ্গে প্রত্যেক স্বামীর কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছেন কয়েক লাখ টাকা। মিতুর তিন নম্বর স্বামী আপন ভাগনি জামাই আনোয়ার হোসেন রিপন বলেন, ২০১২ সালের ৩০ জানুয়ারি আমার খালা শাশুড়ি সুলতানা আক্তার মিতু ওরফে কহিনুর মোবাইল দিয়ে বলে, বিপদে আছি, বাসায় এসে আমার সঙ্গে দেখা করিও। খবর পেয়ে দ্রুত তার বাড়িতে যাই। ওই সময় দরজা খুলেই আমাকে জড়িয়ে ধরে চিৎকার শুরু করে মিতু। সেখানে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা মিতুর লোকজন আমাকে আটকে রাখে। পরে বরিশাল নগরীর এক আইনজীবীর চেম্বারে নিয়ে ছবি তুলে স্টাম্পে স্বাক্ষর রেখে বলে তার সঙ্গে আমার বিয়ে হয়ে গেছে। কয়েকদিন পরই আমার কাছে টাকা দাবি করে মিতু। টাকা দিতে রাজি না হলে নানাভাবে হয়রানি করে। একপর্যায়ে বরিশাল আদালতে আমার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির মামলা করে মিতু।

মিতুর বিয়ে প্রতারণার শিকার হয়ে এলাকা ছাড়া হয়েছেন দাবি করে ৫ নম্বর স্বামী মামুন হাওলাদার বলেন, আমার সঙ্গে প্রেমের অভিনয় করে ৩ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে মিতু। সে বলেছে আমাদের বিয়ে হয়েছে। কাবিন তিন লাখ টাকা। ছাড়তে হলে তিন লাখ টাকা দিতে হবে। তার ওই টাকা দিতে গিয়ে ভিটেমাটি বিক্রি করে আজ আমি এলাকা ছাড়া। সম্প্রতি মিতু ওরফে কহিনুরকে আবাসিক হোটেল থেকে পুলিশ আটক করলেও পরে ছাড়া পেয়ে যায়। কিছুদিন আগে তালতলী এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নিয়ে কয়েকজন যুবকের সঙ্গে অনৈতিক মেলামেশা শুরু করে। পরে এলাকার লোকজনের হাতে ধরা পড়ে যায় মিতু। সেখান থেকে মিতুকে তাড়িয়ে দেয় এলাকাবাসী। এসব বিষয়ে জানতে মিতু ওরফে কহিনুরের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিয়ে পাওয়া যায়নি। তাই বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে বরিশাল পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার শারমিন সুলতানা রাখি বলেন, এ বিষয়ে একটি অভিযোগ দিয়েছেন এলাকাবাসী। সংশ্লিষ্ট থানায় অভিযোগটি পাঠানো হবে। তারা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন।

(Visited 459 times, 1 visits today)

Related Post

You may also like...