আত্মহত্যা ঠেকাল পুলিশ- গত ৯ ফেব্রুয়ারি (শনিবার), রাত তখন ২টা বেজে ২৭ মিনিট। জাতীয় জরুরি সেবার ৯৯৯ নম্বরে পটুয়াখালী থেকে ফোন করলেন এক নারী। জানালেন তার ভাই রাজধানীর মোহাম্মদপুরে আত্মহত্যা করতে যাচ্ছেন। আর এই ফোন পেয়েই মাত্র ৬ মিনিটের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ। এরপর মৃত্যুর মুখ থেকে উদ্ধার করে ওই ব্যক্তিকে থানায় নিয়ে যান পুলিশ সদস্যরা। জাতীয় জরুরি সেবা সূত্র জানায়, গত শনিবার গভীর রাতে পটুয়াখালী থেকে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে এক নারী বলেন, ‘আমার ভাই আসিফ খান (ছদ্মনাম) মোহাম্মদপুরের ১ নম্বর সড়কের একটি বাসায় থাকে। সেখান থেকে একজন ফোন করে জানিয়েছেন, আসিফ খান আত্মহত্যার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।’ খবরটি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রাত ২টা ২৭ মিনিটে মোহাম্মাদপুর থানার সংশ্লিষ্ট টহল টিমকে জানায় ৯৯৯ কর্তৃপক্ষ।

তখন ঘটনাস্থল থেকে এক কিলোমিটর দূরে পুলিশের টিমের অবস্থান। খবর পেয়ে মাত্র ৬ মিনিটে অর্থাৎ ২টা ৩৩ মিনিটে ঝড়োবেগে ওই বাসায় পৌঁছে পুলিশ। উদ্ধার করে আসিফ খানকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশ জানায়, আসিফ খান ডগ ট্রেইনার হিসেবে ঢাকায় কাজ করেন। স্ত্রীকে নিয়ে মোহাম্মাদপুরের ওই বাসায় থাকতেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি পুলিশকে জানান, কাক্সিক্ষত সাফল্য না পেয়ে আত্মহননের পথ বেছে নেওয়ার জন্য মনস্থির করেন। রাতভর থানাপুলিশের কর্মকর্তারা তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেন, আত্মহত্যা কোনো সমাধান নয়। সকালে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও মোবাইল ফোনে কথা বলে আসিফ খানকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। পরে পটুয়াখালী থেকে তার বোন ও দুলাভাই এলে গতকাল দুপুরে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয় আসিফকে। ওই নারী বলেন, শুনেছিলেন যে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে দ্রুত সহযোগিতা পাওয়া যায়। কিন্তু ফোন করার সঙ্গে সঙ্গে যে পুলিশ ঘটনাস্থলে চলে আসে, যা তাঁর কাছে ছিল অবিশ্বাস্য। ৯৯৯-এর সহাকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মিরাজুর রহমান পাটোয়ারী বলেন, ‘ওই ব্যক্তি পুলিশকে আশ্বস্ত করেছেন, তিনি আর আত্মহত্যা করবেন না। এমন অনেক কাজের মাধ্যমে এ সেবাটি মানুষের আস্থা অর্জন করে নিয়েছে। ৯৯৯ স্বল্পতম সময়ে সাড়া দিতে প্রস্তুত থাকে সব সময়।’ জরুরি সেবা ৯৯৯ তে কাজ করেন এমন কর্মকর্তারা জানান, প্রাণনাশের আশঙ্কা, ধর্ষণ–সংক্রান্ত ঘটনা, গৃহকর্মী নির্যাতন, কাউকে আটকে রাখা, লিফটে আটকে পড়া, অসুস্থ হয়ে পড়ে থাকা, দুর্ঘটনা, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা, অ্যাম্বুলেন্স, পারিবারিক সমস্যা সমাধান, নিখোঁজ শিশু উদ্ধার, গাছ কাটা বন্ধ করা, শব্দদূষণ ছিনতাইসহ নানা ধরনের সমস্যায় সাধারণ ও বিপদগ্রস্ত মানুষকে তাঁরা এ পর্যন্ত সহযোগিতা করেছেন।

মূলত ৯৯৯ নাগরিকের জরুরি যেকোনো প্রয়োজনে কোনো একটি মুঠোফোন থেকে সম্পূর্ণ টোল ফ্রি বা বিনা পয়সায় পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও অ্যাম্বুলেন্স সেবা দিয়ে থাকে। সপ্তাহে ৭ দিন ২৪ ঘণ্টা চালু থাকে এই সেবা। ৯৯৯ সার্ভিসের প্রশিক্ষিত কর্মীরা প্রয়োজন অনুযায়ী ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ বা অ্যাম্বুলেন্স সেবা প্রদানকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেন। ২০১৭ সালের ১২ ডিসেম্বর এই ৯৯৯ চালু করা হয়। ইডেনের সাবেক অধ্যক্ষ খুনের ঘটনায় মামলা, ২ গৃহকর্মীকে খুঁজছে পুলিশঃ রাজধানীর ইডেন মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মাহফুজা চৌধুরী পারভীন হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। আজ সোমবার বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর নিউমার্কেট থানায় দুই গৃহকর্মীসহ তিনজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন নিহত নারীর স্বামী ইসমত কাদির গামা। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন নিউমার্কেট থানার উপপরিদর্শক আতিকুর রহমান। তিনি জানান, সকালে মাহফুজা চৌধুরীর স্বামী মামলাটি করেন। মামলার দুই আসামি গা ঢাকা দিয়েছে। তাদের খুঁজছে পুলিশ। উল্লেখ্য, সায়েন্স ল্যাব এলাকায় সুকন্যা টাওয়ারের ১৬/সি নম্বর ফ্ল্যাটে থাকতেন ৬৬ বছর বয়সী মাহফুজা চৌধুরী পারভীন। রোববার রাত ৮টায় বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনার পর থেকেই ওই বাসায় কর্মরত দুই গৃহকর্মী নিখোঁজ রয়েছেন। পুলিশ ধারণা করছে, তারাই মাহফুজা চৌধুরীকে হত্যা করে পালিয়েছে। পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার মারুফ হোসেন সর্দার এ বিষয়ে বলেন, পলাতক দুই কাজের মহিলাকে চিহ্নিত করা গেছে। তাদের একজনের বাড়ি শরীয়তপুর, আরেক জনের বাড়ি মাদারীপুর। তাদের ধরতে আমরা জোর তৎপরতা চালাচ্ছি। এদিকে, সোমবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত মাহফুজা চৌধুরী পারভীনের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে । ময়নাতদন্ত করেন ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ। তিনি বলেন, ময়নাতদন্ত শেষে আমরা দেখতে পাই মৃত নারীর ঠোঁটে, মুখে ও আঙুলে ধস্তাধস্তির চিহ্ন পাওয়া গেছে। একটা আঙ্গুল ভাঙ্গা ছিল। ডা. সোহেল মাহমুদ বলেন, তাকে মুখ চেপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ড একজনের পক্ষে সম্ভব নয়। একাধিক ব্যক্তি এই হত্যার সাথে জড়িত বলে জানান তিনি।

\\\ রাজধানীর আবাসন মেলায় বিক্রি হলো আগাম কবরের প্লট! কবরের জমির সংকট। তাই একই কবরেই ঠাঁই দিতে হচ্ছে একই অনেক সদস্যকে। নিজের একটা ফ্ল্যাট বা বাড়ি করার জন্য এক টুকরো জমি। ঢাকার মধ্যবিত্তের সারাজীবনের স্বপ্ন। কিন্তু কবরের জমি কিংবা প্লট? সেটাও আবার জীবিত থাকতেই আগাম বুকিং? ঢাকায় যে আবাসন মেলা চলছে, সেখানে এই অভিনব ব্যবসায়িক উদ্যোগ নিয়ে হাজির হয়েছে একটি প্রতিষ্ঠান। মেলার শেষ দিনে গিয়ে দেখা গেল, তাদের স্টলেও ভিড় করছেন অনেকে। এদের একজন শফিকুল ইসলাম। অন্যান্য স্টলে ঘুরে একটি স্টলের সামনে এসে দাঁড়ালেন। এমআইএস হোল্ডিংস লিমিটেড নামের প্রতিষ্ঠানটি মেলায় কবরের জন্য প্লটের বুকিং নিচ্ছে। শফিকুল ইসলাম স্টলের কর্মীদের কাছ থেকে বুঝে নিচ্ছিলেন প্রয়োজনীয় তথ্য। ইসমাইল হোসেন নামে একজন দর্শনার্থী বলছিলেন, ঢাকা শহরে কবরের স্থানের যে অপ্রতুলতা রয়েছে সে অনুযায়ী এই উদ্যোগটা তার কাছে ব্যতিক্রম মনে হয়েছে। এই জিনিসটা ঢাকা শহরের জন্য ঠিক আছে। কারণ ঢাকা শহরে কবরস্থান দিনে দিনে একটা সংকটের দিকে চলে যাচ্ছে। একটা কবর দেয়ার পর হয়ত তিনমাস পর আবার সেখানে রিপ্লেস করা লাগছে। এখন এরা যদি সততার সাথে কবরগুলো মানুষকে বুঝিয়ে দিতে পারে তাহলে আমি মনে করি এটা খুব ভালো কাজ।

নিজের জন্য একটি কবরের প্লট বুকিং দিয়ে রাখা যায় কীনা, সেটা নিয়ে সত্যি সত্যি ভাবছেন ইসমাইল হোসেন। তিনি বলেন, চিন্তা-ভাবনা করবো, যদি দেখি তাদের কাগজপত্র, সরকারের অনুমোদন সব ঠিক আছে তাহলে আমি চিন্তা করবো এখানে একটা জায়গা কেনার। বাংলাদেশে কবরের জন্য জমি বা প্লট বিক্রির বলা যেতে পারে এটাই প্রথম কোন বেসরকারি বাণিজ্যিক উদ্যোগ। এম আই এস হোল্ডিং লিমিটেডের এই প্রকল্পটি ঢাকার অদূরে পূর্বাচলে। প্রতিষ্ঠানটির একজন কর্মকর্তা আফরোজা সুলতানা বলছিলেন কেন তারা প্লট বা ফ্লাটের পরিবর্তে কবরস্থান তৈরির উদ্যোগ নিলেন? এই খবরটা জানার পরে অনেকে বিতর্ক সৃষ্টি করার চেষ্টা করে। বলে কবর নিয়েও ব্যবসা করে! কিন্তু চিন্তা করলে দেখা যায় – যখন বাংলাদেশে মিনারেল ওয়াটার এসেছিল তখন মানুষ বলতো, পানি আবার কিনে খেতে হবে! কিন্তু সেই পানি এখন আমাদের সব সময় লাগে। তেমনি ভাবে এই বিষয় আমাদের জীবনের অংশ। আসলে নতুনত্বকে গ্রহণ করে নেয়ার মানসিকতা তৈরি করতে হবে।

ঢাকায় ৮টি সরকারি কবরস্থান রয়েছে। ৫, ১০, ১৫ ও ২৫ বছর, এরকম নানা মেয়াদে সেখানে জায়গা বরাদ্দ আছে খুব অল্প কিছু কবরের। যার জন্য দেড় থেকে সর্বোচ্চ ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ করতে হয়। কিন্তু সেটি যারা পারছেন না তাদের জন্যেই অস্থায়ী কবর। আর সেই সংখ্যাটিই বেশি। দুবছর পর পর সেসব কবরে যোগ করা হয় আরেকটি মরদেহ। তাই এখন এই স্থায়ী কবরস্থানকে ভালো ভাবে দেখছেন মেলায় আসা অনেকে।

ঢাকার আজিমপুরের কবরস্থানটিতে ৩০ হাজারের মতো কবরের জায়গা হয়। বনানী কবরস্থানে রয়েছে ২২ হাজার কবরের জায়গা। আফরোজা সুলতানা বলছিলেন তাদের এই মূহুর্তে রেডি কবরের প্লট রয়েছে দু্‌ই হাজার, তবে মেলায় দুশোটির মত বুকিং পেয়েছেন তারা। তিনি জানালন, আমাদের অনেক ভালো রেসপন্স আলহামদুলিল্লাহ। সবাই এটাকে ভালো বলছে। আমাদের ২০০টির মত বুকিং হয়েছে। আর এটা একদম নতুন। অনেকে জানে না। জানলে আস্তে আস্তে আমরা আরো ভালো রেসপন্স পাবো। ঢাকা শহরের মানুষ যত বাড়ছে, সেই সঙ্গে বাড়ছে কবর দেয়ার জায়গার সংকট। এটাই কঠিন বাস্তবতা। তাই আপনজনের কবরের উপর অন্য কারো কবর যাতে না হয় সে কারণে অনেকে উত্‍সাহ প্রকাশ করেছেন স্থায়ী এই ব্যবস্থায়।

Related Post

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •