কোন কলা বেশি উপকারী, কাঁচা না পাকা ?

কোন কলা বেশি উপকারী- কলা সব সময়ের জন্য স্বাস্থ্যকর একটি খাবার। এটি সারা বছরই পাওয়া যায়।কলা কাঁচা কিংবা পাকা যাই হোক না কেন দুটিরই আলাদা পুষ্টিগুণ রয়েছে। একেকটা একেকরকম কাজ করে। কিছু পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াও আছে।

পাকা কলায় যেসব বৈশিষ্ট্য রয়েছে-
১. এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ ২. এতে প্রাকৃতিক চিনি যেমন-ফ্রুক্টোজ, গ্লুকোজ এবং সু্ক্রোজ রয়েছে ৩. এটা সহজে হজম করা যায় ৪. শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় ৫. পাকা কলা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। সেই সঙ্গে এটি হৃদরোগের জন্যও উপকারী।
কিছু নেতিবাচক ব্যাপারও আছে পাকা কলায়। এতে উচ্চ পরিমাণে গ্লাইসিমিক ইনডেক্স থাকায় এটি ডায়াবেটিস রোগীদের বেশি খাওয়া ঠিক নয়। কলা যত বেশি পাকা হবে এতে সুগারের পরিমাণও তত বাড়বে।

এমনিতে কাঁচা কলা তরকারী হিসাবেই খাওয়া হয়। এর বেশ কিছু পুষ্টিগুণ আছে। যেমন-
১. এটি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য বেশ উপকারী। ২. এতে থাকা প্রবায়োটিক ব্যাকটেরিয়া স্বাস্থ্যের উন্নতি করে। ৩. ডায়রিয়া রোগীদের জন্য এটি বেশ কার্যকরী। ৪. কাঁচা কলায় নানা ধরনের পুষ্টি উপাদান থাকে। বিশেষ করে এতে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়।
কাঁচা কলা খেলে কিছু সমস্যাও হয় অনেকের। এতে খুব কম পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। কেউ কেউ এটি খেলে হজমের সমস্যায় ভোগে। কারও কারও আবার গ্যাসেরও সমস্যা দেখা দেয়। সূত্র : এনডিটিভি

# রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় ড্রাগন ফল: রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা- আজকাল অনেক সুপার শপেই ড্রাগন ফল পাওয়া যায়। দেখতে কিছুটা অদ্ভুত হলেও এই ফলটি স্বাস্থ্যের জন্য দারুন উপকারী। কাঁচা খেতে ভাল না লাগলে বিভিন্ন সালাদের সঙ্গে মিশিয়েও ফলটি খেতে পারেন।
ক্যাকটাস জাতীয় গাছে ড্রাগন ফল হয়। অন্যান্য ক্যাকটাস ফলের মতো এই ফলটিরও কিছু স্বাস্থ্যগুণ রয়েছে। যেমন- ১. ড্রাগন ফলে প্রচুর পরিমাণে লাইসোপিন থাকে যা প্রোস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়। ২. নিয়মিত ড্রাগন ফল খেলে দৃষ্টিশক্তি ভাল হয়। ৩. ড্রাগন ফলে প্রচুর পরিমাণে পুষ্টি রয়েছে। প্রতি ১ কেজি ড্রাগন ফলে ৫২ ক্যালরি, কিছু প্রোটিণ, ভাল ফ্যাট এবং সহনীয় পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট ও ফাইবার রয়েছে। দিনের চাহিদার প্রায় এক তৃতীয়াংশ ভিটামিন সি, ১০ শতাংশ আয়রন পাওয়া যায় এক কেজি ড্রাগন ফলে।

৪. ড্রাগন ফলের বীজে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা থ্রি এবং ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে। নিয়মিত এটি খেলে শরীরের কার্যকারিতা বাড়ে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়। ৫. ড্রাগন ফলে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি থাকে যা কার্বোহাইড্রেট ভেঙে হজমে সহায়তা করে। এছাড়া এতে থাকা বিভিন্ন ভিটামিন বি মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়ায়, মেজাজ ঠিক রাখে, শরীরের শক্তি বাড়ায়, ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে। ৬. ড্রাগন ফলে ক্যালসিয়াম, আয়রন, এবং ফসফরাস রয়েছে। এতে থাকা ক্যালসিয়াম হাড় ও দাঁত শক্তিশালী করে।
৭. ড্রাগন ফলে প্রচুর পরিমাণে ফাইটোকেমিক্যালস রয়েছে। এই উপাদানটি হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। ড্রাগন ফলে প্রচুর পরিমাণে ফ্রুটোজও থাকে যা রক্তে শর্করার পরিমাণ বাড়ায়। এ কারণে খুব বেশি পরিমাণে ড্রাগন ফল একবারে খাওয়া ঠিক নয়।

(Visited 127 times, 6 visits today)

Related Post

You may also like...