দেশে নিষিদ্ধ খারাপ সাইট- বাংলাদেশে খারাপ সাইট নিয়ে আগের তুলনায় ইদানিং হঠাৎ করে আসক্তি যখন বেড়ে গেল। ঠিক তখন এক তরুণ একের পর এক ফেসবুক পোস্ট করতে শুরু করতে লাগলেন এই নিষিদ্ধ সাইটগুলোর বিরুদ্ধে। পরবর্তীতে এই তরুণের পোস্টের উত্তাপ যখন জনসমর্থণে পরিণত হতে শুরু করো, পাশাপাশি তা পৌঁছে যায় দেশের জাতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর কাছেও।

আর এর পিছনে যিনি নীরবে শ্রম দিয়ে যাচ্ছিলেন দেশের যুবসমাজকে এই ভয়ঙ্কর থাবার হাত থেকে রক্ষা করতে তিনি আরিফ রহমান শিবলী। বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ার শিশু গণমাধ্যম ‘এ আর কিডস মিডিয়ার’ প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি আন্তর্জাতিকভাবেও কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। এদিকে খারাপ সাইট শিশু-কিশোরদের মস্তিষ্ক কতটা বেপরোয়া করে তা তিনি যখন সিরিজ আকারে লিখতে থাকেন তিনি। আর এরই ধারাবাহিতকতায় ‘বন্ধ হয়নি এখনো খারাপ সাইট’ শীর্ষক একটি সংবাদ প্রকাশ করে বেশকিছু জাতীয় সংবাদ মাধ্যম। সংবাদ প্রকাশের পর সাবেক প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম তখন অল্পকিছু খারাপ সাইট তখন বন্ধ করতে সমর্থ হয়। কিন্তু কিছুদিন না যেতেই পুনরায় সচল হয় ওঠে দেশে খারাপ সাইট গুলো। পরে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন মোস্তফা জব্বার। এবার সেই লাগামহীন ঘোড়া নামক খারাপ সাইট বন্ধ করতে সোচ্চার হোন মন্ত্রী নিজেই। এর মধ্যে বন্ধ হয়েছে ২৪২ টি খারাপ সাইট আরও বন্ধ হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার। বাংলাদেশে খারাপ সাইট বন্ধ করার পিছনে যিনি নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন আরিফ রহমান শিবলী বলেন, বিশ্বাস করুন আজ যখন সংবাদটি দেখলাম নতুন মন্ত্রী খারাপ সাইট বন্ধে তৎপর অনেক আনন্দ লাগছে। যে শিশু কিশোরদের কন্ঠ সরকারের কাছে পৌঁছে দিতে কাজ করছি দীর্ঘদিন, তারাই যখন খারাপআসক্তিতে ডুবে পড়ে তখন খারাপ লাগবেই। তিনি বলেন, সাইটগুলো বন্ধের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অলি-গলিতে থাকা মোবাইল, কম্পিউটারে গান, ভিডিও ঢুকানো দোকানদারদের দিকে নজর দিতে হবে। আর এ বিষয়ে মাননীয়মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার ও আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের প্রতি নজর বাড়াতে অনুরোধ জানাচ্ছি। এছাড়াও আরিফ শিবলী আরও বলেন, মাদকের মত খারাপ সাইট বন্ধের এই যুদ্ধেও দেশের সকল অভিভাবক, শিশু কিশোরসহ সবার সমর্থন থাকবে বলে আমার বিশ্বাস।

## যে মা ছেলের পরিচয়ে পরিচিতি পেতে রাজি নন: ফেইসবুকে দু-চার লাইন লিখে, হাজারখানেক ফলোয়ারের বাহবা পেয়ে নিজেকে লেখক ভেবে বই প্রকাশ করা বেশ কিছু লেখককে তো আমরা প্রায় সবাই চিনি। বই মেলায় যদু-মধু-কদুদের নিজের লিখা বই প্রকাশ করা আর আত্মীয়-অনাত্মীয় সবাইকে সেসব বইয়ের সৌজন্যকপি ‘উপহার’ দেয়ার প্রথাও অনেকটাই প্রচলিত হয়ে গিয়েছে। এদের অখাদ্য পর্যায়ের বইগুলোর প্রচার প্রচারনাও হয় দিব্যি। লজ্জিত অনাগ্রহে কিংবা চক্ষুলজ্জার ফাঁদে পা দিয়ে অনেকসময় তাদের বই হয়তো আমরা কিনেও ফেলি, কিন্তু কয়েক পৃষ্ঠা পড়ার পর বাকী বইটা ঘরের কোন কোণায় ফেলে রাখি তার খবরও থাকেনা। হুট করে লেখক বনে যাওয়া যদু-মধুদেরও পরের বছরের মেলায় আর খুঁজে পাওয়া যায় না। এসবই তো হয়ে আসছে ইদানিং। কয়টা ভালো লেখক বেরিয়ে আসছে এই প্রজন্ম থেকে? কিংবা হুমায়ূনী যুগের পর পাঠকদের বইপ্রীতি ধরে রাখার মতো কয়টা লেখক আছে এই যুগে? ভালো লেখক যে নেই তা না। যোগ্য লেখকরা স্বভাববশতই বিনয়ী হয়। প্রচারনার জন্যে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়ানোটা তাদের কাজ নয়। লেখকের কাজ লিখে যাওয়া। আর পাঠকের কাজ একজন ভালো লেখকের কিংবা একটা ভালো বইয়ের প্রচারনা করা। আজ একজন পাঠক হিসেবে গল্প বলবো একজন কৃতি লেখকের। লেখক না, লেখিকার।

ভদ্রমহিলার নাম ড. আকন্দ সামসুন নাহার। ১৯৪৩ সালে ভোলার তজুমদ্দীন থানার এক প্রথিতযশা শিক্ষানুরাগী পরিবারে তার জন্ম। তিনি বাংলায় অনার্স করেন ইডেন কলেজ থেকে, এবং মাস্টার্স করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। পরে রাষ্ট্রবিজ্ঞান আর শিক্ষাব্যবস্থাপনায় আরো দু’টো মাস্টার্স করেন। ভারতের কল্যানী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্পন্ন করেন পিএইচডি ডিগ্রী। দীর্ঘদিন তিনি সরকারি কলেজে অধ্যাপনা করেছেন। ন্যাশনাল কারিকুলাম এ্যন্ড টেক্সট বুক বোর্ডেও কাজ করেছেন। ৭৬ বছর বয়সী এই প্রবীণ লেখিকার আজ অব্দি ২১ টি বই প্রকাশ পেয়েছে। যার সবগুলোই তিনি নিজ খরচে প্রকাশ করেছেন। তরুন ফেইসবুক সেলিব্রেটিদের নষ্ট রসে টই-টুম্বুর কিংবা দুষ্টু-মিষ্টি প্রেমের গল্প গোগ্রাসে গিলে খাওয়া এই প্রজন্ম হাতে তুলে নেয়নি এই বৃদ্ধার সুস্থ্যধারার বইগুলো। কাজেই কোনো প্রকাশক তার পাশে দাঁড়ায়নি। নিজের ব্যবসার অাসন্ন ক্ষতি কেইবা মেনে নিতে চাইবে। প্রকাশকরা তো জানেই পাবলিক কি খায় আর কি খেতে চায়। তারা তো ডিমান্ড অনুযায়ীই সাপ্লাই করবে। এখানেই পিছিয়ে পরে সুস্থ্যধারার বইগুলো। তবে সামসুন নাহার পিছিয়ে যাননি। অধ্যাবসায় আর পরিশ্রমের প্রমান দিয়ে মেলার কোনো স্টলে জায়গা না পেয়ে অবশেষে বইয়ের বোঝা নিয়ে গতবছর দাঁড়িয়ে গিয়েছিলেন খোলা আকাশের নিচে। নিজের ছেলে মেয়ে কিংবা নাতী-নাতনীর বয়সী পাঠকদের অনুরোধ করেছেন তার একটা বই পড়ে দেখার জন্য। একজন মা তপ্ত রোদে দাঁড়িয়ে সন্তানকে অনুরোধ করছেন তার লিখা পড়ে দেখার জন্যে !
ওহ হ্যাঁ, উনি কিন্তু আবার দেশের সঙ্গীত জগতের সেরা তারকাদের একজনের গর্ভধারিণী। শিরোনামহীন ব্যান্ডের প্রাক্তন ভোকাল, যিনি বর্তমানে আভাস নামক ব্যান্ডের সাথে যুক্ত আছেন, সেই তানজির তুহিন এই লেখিকার সন্তান। সন্তানের পরিচয়ে তিনি পরিচিত হতে চাননি। সন্তানের নাম ভাঙিয়ে নিজের বই মানুষের হাতে তুলে দিতে চাননি। তিনি চেয়েছেন নিজের লিখা পৌঁছে দিতে সন্তানসম পাঠকদের হাতে। তিনি অন্যান্য হুজুগে লেখকদের মত ফেইসবুক লেখক নন, একজন উচ্চ ব্যক্তিত্বসম্পন্ন এবং আদর্শবান লেখিকা। গতবারের বইমেলায় তার একটি বই প্রকাশিত হয়েছিলো, বইটির নাম ‘লঞ্চ টার্মিনাল’। বইটিতে লঞ্চ টার্মিনালকে ঘিরে গড়ে ওঠা পরিবারগুলোর মধ্যে একটি পরিবারের জীবনচিত্র উঠে এসেছে বিভিন্ন আঙ্গিকে। বর্তমানে তার প্রকাশিক বইয়ের সংখ্যা ২১ টি। পাঠক সম্প্রদায়ের উৎসাহ পেলে ভবিষ্যতে আরো বই লিখবেন এই গুণী লেখিকা। এছাড়াও নিজের আত্মজীবনী লিখতে চান তিনি।

নির্দিষ্ট কোনো প্রকাশনীর স্টলে তার বই প্রদর্শিত না হলেও এবারের মেলায় বেশ কয়েকটি স্টলে তার বই স্থান পেয়েছে। তাদের মধ্যে প্রদীপ প্রকাশনী অন্যতম। লেখিকার প্রায় সবগুলো বই এই স্টলে পাওয়া যাবে। এছাড়‍াও রকমারী ডটকম সহ অনলাইন বুক শপগুলো থেকেও তাঁর বই সংগ্রহ করতে পারেন। লেখকে – Ayan Ahraan Mrinmoy
প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে

Related Post