সুইপার হানিফের মাসিক বেতন ৩০০০ টাকা, বাড়ি কিনেছেন কোটি টাকার

মাসিক বেতন ৩০০০ টাকা- ফেনী পৌরসভার সুইপার হানিফ। বারাহিপুর এলাকায় তার রয়েছে কোটি টাকা মূল্যের বাড়ি। পৌর এলাকায় তার নামে সম্পত্তিও রয়েছে। তার সম্পদের উৎস অনুসন্ধানে তদন্তে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বিভিন্ন সূত্র জানায়, ফেনী পৌরসভায় দীর্ঘ দিন ধরে সুইপারের কাজ করেন হানিফ। ভাতা পান দৈনিক ১০০ টাকা। পৌরসভায় কাজ করার সুবাদে জড়িয়ে পড়েন মাদক ব্যবসায়। পৌরসভা সংলগ্ন নির্মাণাধীন শ্যাম নাহার গার্ডেনের পেছনে শুরু করেন মাদক কেনাবেচা। সেটি এখন মাদকের স্বর্গরাজ্য হিসেবে পরিচিত। বিভিন্ন সময় তাকে ধরতে অভিযান চালিয়েছে জেলা প্রশাসনের মাদক বিরোধী টাস্কফোর্স পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালত, পুলিশ, এমনকি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর।

বেশ কয়েকবার গ্রেফতারও হন হানিফ। পরে কিছুদিন কারাভোগের পর জামিনে বের হয়ে ফের মাদক কারবারে জড়িয়ে যান শহরতলীর পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের নগরকান্দি গ্রামের এ বাসিন্দা। একটি সূত্র জানায়, মাদক কেনাবেচার ফলে অঢেল সম্পদের মালিক বনে যান সুইপার হানিফ। পৌরসভার বারাহিপুর এলাকার রেললাইন সংলগ্ন বঙ্গবীর ওসমানী সড়কে মো: নুর আলম ওরফে আলম বাবুর্চি থেকে পাঁচ শতক জমিসহ দ্বিতল ভবনের বাড়ি কিনেন তিনি।
৭০ লাখ টাকা মূল্যে কেনা ৬৫/০২ হোল্ডিংয়ের ওই বাড়িটিতে চার পরিবার ভাড়া নিয়ে বসবাস করছেন। এ ছাড়া, রেললাইনের পাশে আনসার সফি থেকে ২৫ লাখ টাকা দিয়ে চার শতক জায়গা কিনেন হানিফ। বাড়ির ভাড়াটে নাসির উদ্দিন জানান, গত প্রায় এক বছর ধরে তিনি এ বাসায় সপরিবারে বসবাস করছেন। মাসিক হারে হানিফকে ভাড়া দেন পাঁচ হাজার টাকা। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের পরিদর্শক অমত্য সেন জানান, সুইপার হানিফ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী। তাকে ধরতে বিভিন্ন সময় বারাহিপুর রেললাইনের পাশে কেনা বাড়িটিতেও অভিযান চালানো হয়েছে। ২০১৮ সালের ৮ মার্চ পুলিশ কোয়ার্টার আলকেমী হাসপাতাল সংলগ্ন রহিমা ম্যানশনের ভাড়া বাসা থেকে ৪০ বোতল ফেনসিডিলসহ তাকে গ্রেফতার করা হয়। এর দুইমাস পর ৩০ মে শ্যাম নাহার গার্ডেনের পেছনে তার আস্তানা থেকে ২০ লিটার চোলাই মদ উদ্ধার করা হয়। দুদক সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক তদন্তে হানিফের কোটি টাকার সম্পদের সন্ধান পাওয়া গেছে। দুদক নোয়াখালী অঞ্চলের উপ-পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম জানান, হানিফের সম্পদের খোঁজে দুদক অনুসন্ধান চালাচ্ছে। তদন্ত কাজ অনেক দূর এগিয়েছে। উপ-সহকারী পরিচালক আলতাফ হোসেন তদন্তের দায়িত্বে ছিলেন। সম্প্রতি তিনি অন্যত্র বদলি হওয়ায় নতুন করে কাউকে দায়িত্ব দেয়া হয়নি। ফেনী পৌরসভার প্যানেল মেয়র আশ্রাফুল আলম গিটার জানান, হানিফ ‘মাস্টার রোলে’ সুইপারের কাজ করত। মাদকসহ ভ্রাম্যমাণ আদালতে গ্রেফতারের পর তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে পৌরসভার সুইপার হানিফ বলেন, ‘দুদকের তদন্তের বিষয়টি আমার জানা নেই। গ্রামের বাড়িতে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে পৌর এলাকায় বাড়ি ও জায়গা কিনেছেন বলে তার দাবি।

## সম্মান জানাই পূর্ণিমার সংগ্রামী চেতনাকে: মহিলা সংরক্ষিত আসনে পূর্নিমা শীলের দলীয় সাংসদ মনোনয়নে ফর্ম কেনা ছিলো একটি আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। এই সিদ্ধান্তের পিছনে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের একটি মহলের প্রত্যক্ষ মদত ছিলো।

আমি আমার পূর্ববর্তী লেখায় বলেছিলাম পূর্নিমা শীলের সাংসদ হওয়া সুদূরপরাহত ব্যাপার। সাংসদ হওয়া তো দূরের কথা পূর্নিমাকে একটি চাকরির ব্যবস্থাও কেউ করে দিতে পারেনি। সেখানে তাকে সাংসদ বানানোর দুঃসাহস দেখানো উচিত হয়নি। পূর্নিমাকে আমরা তার অতীত ভুলে যেতে দিচ্ছি না। প্রতি পদক্ষেপে আমরা তার অতীত টেনে তাকে ক্ষতবিক্ষত করছি। চাকরির জন্য যেখানেই তাকে পাঠানো হয়েছে সেখান থেকে তাকে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে ‘ধর্ষিতা’ বলে। এ সমাজ তাকে নিস্তার দেবে না। কারণ এ সমাজ এখনো একজন নিগৃহীতাকে সম্মান দিতে শিখেনি। বামুন হয়ে চাঁদে হাত দিতে নেই। আমরা আমাদের অতীত ভুলে যাই। সংখ্যালঘু নির্যাতন, সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন, সংখ্যালঘু অস্তিত্ব নিয়ে সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত ছাড়া দ্বিতীয় কোনো সংখ্যালঘু সাংসদ সংসদে কথা বলেছে এমন রেকর্ড সংসদীয় ইতিহাসে নেই। সেখানে কোথাকার কোন পূর্নিমা সংসদে দাঁড়িয়ে দেশের বদনাম করবে এ হতে পারে না। যে সংসদ রাজাকারের রক্তের উত্তরসূরীদের অংশীদারিত্বে কলুষিত সে সংসদে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির একজন দাঁড়িয়ে তর্জনী উচিয়ে সোচ্চার হবে এ হতে পারে না।

পুর্নিমা ভুলে গিয়েছিলো একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সাথে এ সরকারের কোনো সম্পর্ক নেই। পূর্নিমা সারাদেশে রাজাকার আলবদর আর স্বাধীনতা বিরোধীদের বিরুদ্ধে ৬১টি সভায় বক্তব্য রেখেছিলো। এ পাপের প্রায়শ্চিত্ত তাকে করতেই হবে। পূর্নিমাদের আজন্ম পাপ তারা সংখ্যালঘু কুলে জন্ম নিয়েছিলো।

পূর্নিমাকে আমি বেগম রোকেয়ার সাথে তুলনা করে তার সংগ্রামী চেতনাকে কলিমালিপ্ত করতে চাই না। একাত্তরের মা বীরাঙ্গনা রমা চৌধুরী মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে নিগৃহিতা হয়েছিলেন। জীবদ্দশায় তিনি পায়ে চটি পড়তেন না মাটিকে অসম্মান করা হবে বলে। কারণ এই মাটিতে শুয়ে আছেন তার দুই ছেলে এবং অসংখ্য শহীদের দেহ। মুক্তিযুদ্ধ তার কাধে ঝোলা ধরিয়ে দিয়েছিলো। এ জাতি, এ সরকার তাকে সম্মানিত করেনি। তাকে কোনো পদক দেয়া হয়নি, ন্যূনতম তাকে স্মরণে রাখার মতো কোনো নিদর্শন নেই। এ অকৃতজ্ঞ জাতির কাছে একজন নির্যাতিতা, ধর্ষিতা যথাযথ সম্মান পাবেন, এ আশা করা দুরাশা। ফেসবুক থেকে

(Visited 287 times, 1 visits today)

Related Post

You may also like...